বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে চাইলে প্রথমে তিনটি মডেলের যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে: রিসেলিং, ড্রপশিপিং বা প্রাইভেট লেবেল। শুরুর দিকে কোনো টাকা খরচ না করে পরিচিত মানুষদের কাছ থেকে পণ্য নিয়ে ড্রপশিপিং মডেলে কাজ শুরু করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। ২০২১ সালে বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজারের আকার ছিল প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২৫ সালের মধ্যে এটি ৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ মাত্র চার বছরে এই বাজার ৪০ শতাংশেরও বেশি বাড়বে। তাই উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা থাকলে এখনই কাজ শুরু করা উচিত। প্রথম সেল আনতে হলে ফেসবুক পেজ খুলে কন্টেন্ট মার্কেটিং করতে হবে, আর প্রতিদিন দুই ঘণ্টা বিভিন্ন গ্রুপে সময় দিলে অর্গানিকভাবেই অর্ডার আসা শুরু করবে।
অনলাইন ব্যবসার আগে যা ঠিক করতে হবে

- ব্যবসার মডেল নির্বাচন: রিসেলিং, ড্রপশিপিং এবং প্রাইভেট লেবেল—এই তিনটি মডেলের মধ্যে কোনটি দিয়ে কাজ শুরু করবেন তা আগেই ঠিক করতে হবে।
- বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত: একদম শুরুতে কোনো টাকা খরচ করার দরকার নেই। বন্ধু বা পরিবারের কারো কাছ থেকে পণ্য নিয়ে ড্রপশিপিং দিয়ে কাজ শুরু করা যায়।
- বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ: ড্রপশিপিংয়ের জন্য পরিচিত কোনো বিক্রেতার সাথে কথা বলুন, অথবা গুগলে সার্চ করে বাংলাদেশের ড্রপশিপিং কোম্পানিগুলোকে খুঁজে বের করুন।
- ফেসবুক পেজ তৈরি: ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজ যাই ব্যবহার করুন না কেন, একটি ফেসবুক পেজ থাকাটা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক।
- প্রোডাক্ট রিসার্চের মানসিকতা: শুধু নিজের পছন্দের জিনিস নয়, এমন পণ্য খুঁজতে হবে যার চাহিদা আছে এবং মানুষের কোনো সমস্যার সমাধান করে।
- অর্গানিক মার্কেটিংয়ের জন্য সময়: সকাল আটটার পর অন্তত দুই ঘণ্টা ফেসবুক গ্রুপে কন্টেন্ট মার্কেটিংয়ের জন্য সময় দেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে।
শূন্য থেকে অনলাইনে সেল আনার ধাপগুলো

-
সঠিক ব্যবসার মডেল বেছে নিন
রিসেলিংয়ে কম দামে পণ্য কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। ড্রপশিপিংয়ে আপনার কাছে কোনো পণ্য থাকে না, অন্যের পণ্য আপনি নিজের নামে বিক্রি করেন। প্রাইভেট লেবেলে অন্য কারখানার পণ্যে নিজের ব্র্যান্ডের নাম লাগিয়ে বিক্রি করা হয়। -
বিনামূল্যে ফেসবুক পেজ দিয়ে শুরু করুন
শুরুতে ওয়েবসাইট বানিয়ে টাকা খরচ করার দরকার নেই। ফেসবুক পেজ খুলে সেখান থেকে পণ্য বিক্রি করাকে এফ-কমার্স বলে। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি একটি মাধ্যম। -
চাহিদাসম্পন্ন একটি পণ্য খুঁজুন
যে পণ্যের সাইজ বা রঙের অনেক ভেরিয়েশন নেই, এমন কিছু বেছে নিন। চার্জিং ফ্যানের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে এস, এম, এল বা ডাবল এক্সএল রাখার ঝামেলা নেই। মানুষের সমস্যা মেটায় এমন পণ্য বেছে নিন। -
ক্যাটাগরি লিস্ট তৈরি করুন
চ্যাটজিপিটিতে গিয়ে জানতে চান বাংলাদেশে কোন কোন ক্যাটাগরির পণ্য নিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব। সেখান থেকে পাওয়া ক্যাটাগরি ও সাব-ক্যাটাগরির তালিকা ধরে পরবর্তী কাজে এগোন। -
সব জায়গায় বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণ করুন
ফেসবুক, গুগল, পিনটারেস্ট, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও লিংকডইনে ওই ক্যাটাগরি লিখে সার্চ করুন। যারা পণ্যটি বিক্রি করছে তাদের পেজের ইউআরএল কপি করে একটি গুগল শিটে তালিকা করুন। -
ফেসবুক অ্যাডস লাইব্রেরিতে যাচাই করুন
গুগলে ‘ফেসবুক অ্যাডস লাইব্রেরি’ লিখে সার্চ করুন। সেখানে আপনার তৈরি করা তালিকার পেজগুলোর নাম লিখে দেখুন তারা বর্তমানে কী কী বিজ্ঞাপন চালাচ্ছে। -
সবচেয়ে বেশি চলা পণ্যটি চিহ্নিত করুন
সবাই মিলে যে পণ্যটি বিক্রি করছে বা যে বিজ্ঞাপন তিন থেকে ছয় মাস ধরে চলছে, বুঝতে হবে সেই পণ্যটির চাহিদা আছে। এভাবেই আসল ডিমান্ড খুঁজে বের করুন। -
ল্যান্ডিং পেজ বানিয়ে অটোমেশন আনুন
অটোমেশনের জন্য একটি ডোমেইন, হোস্টিং ও ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ দিয়ে সিঙ্গেল পেজের ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করুন। এখানে শুধু একটি পণ্যের বিস্তারিত, কন্টেন্ট ও রিভিউ থাকবে। -
ফেসবুক গ্রুপে কন্টেন্ট মার্কেটিং করুন
বিজ্ঞাপনে টাকা না খরচ করে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা বিভিন্ন গ্রুপে পণ্যের ভালো-মন্দ দিক নিয়ে তথ্যবহুল কন্টেন্ট দিন। কমেন্টের রিপ্লাই করুন, তাহলে অর্গানিকভাবেই অর্ডার আসবে।
অটোমেশন কেন দরকার?
ফেসবুক পেজে মানুষ মেসেজ করে প্রশ্ন করে, আপনাকে ম্যানুয়ালি রিপ্লাই দিয়ে বোঝাতে হয়। কিন্তু ল্যান্ডিং পেজে কাস্টমার এসে পণ্য দেখে নিজেই অর্ডার করে চলে যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি অটোমেট হয়ে যায়।
অনলাইন ব্যবসায় যে ভুলগুলো সবাই করে
শুরুতেই কি ওয়েবসাইট বানানো উচিত?
ই-কমার্স ওয়েবসাইটে অনেক পণ্য রাখতে হয়, যা ম্যানেজ করা ও মার্কেটিং করা বেশ ব্যয়বহুল। দারাজ বা রকমারির মতো সাইটে অসংখ্য পণ্য থাকে। তাই শুরুতেই ওয়েবসাইট বানালে ইনভেস্টমেন্ট বেশি লাগবে। এর বদলে ফ্রি ফেসবুক পেজ বা ল্যান্ডিং পেজ দিয়ে শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অনেক রঙ বা সাইজের পণ্য নিয়ে কাজ করলে কী হয়?
শার্টের ব্যবসায় দশটা শার্ট দেখে মানুষ একটা কেনে। আবার ফুল হাতা, হাফ হাতা, নানা রঙ ও সাইজের ইনভেন্টরি মেইনটেইন করতে হয়। এই ঝামেলা শুরুর দিকে বা শেষের দিকেও নেওয়া উচিত নয়। এমন পণ্য বেছে নিন যার ভেরিয়েশন নেই, যেমন একটি ছোট ফ্যান।
শুধু নিজের পছন্দের পণ্য বিক্রি করলে কি চলবে?
নিজের ভালো লাগছে বলেই কোনো পণ্য এনে বিক্রি করা যাবে না। এমন পণ্য আনতে হবে যার চাহিদা আছে। আশেপাশে খোঁজ নিন কোথায় মানুষের অভিযোগ বেশি কিন্তু কেউ সমাধান দিচ্ছে না। মানুষের সমস্যা মেটালে তবেই ব্যবসায় ভালো করা যাবে।
শুরুতেই কি ফেসবুক অ্যাড চালানো ঠিক?
শুরুর দিকে ফেসবুক অ্যাড চালালে লসের মুখে পড়তে হবে, প্রফিট করা যাবে না। যখন হাতে পর্যাপ্ত বাজেট ও সামর্থ্য তৈরি হবে, তখনই কেবল পেইড প্রমোশনে যাওয়া উচিত। তার আগে অর্গানিক মার্কেটিংয়েই জোর দিন।
গ্রুপে কি শুধু পোস্ট করলেই হবে?
শুধু পোস্ট করলে হবে না, কন্টেন্ট মার্কেটিং করতে হবে। পণ্যের ভালো দিক, খারাপ দিক, কেন কেনা উচিত এবং কারা কিনবে—এসব নিয়ে তথ্যবহুল কন্টেন্ট বানাতে হবে। শার্ক ট্যাঙ্কের একজন ফাউন্ডার ভোর চারটা থেকে আটটা পর্যন্ত প্রতিদিন তিন-চার ঘণ্টা বিভিন্ন গ্রুপে পণ্য নিয়ে আলোচনা ও কমেন্টের রিপ্লাই করেন। এই নিয়মিত পরিশ্রমই অর্গানিক সেল আনে।
এই গাইডলাইন যা অমীমাংসিত রাখে
- প্রোডাক্ট রিসার্চের আরও বিস্তারিত টেকনিক ও মেথডোলজি আছে, তবে এই আলোচনায় সেগুলো আনা হয়নি। ভবিষ্যতে আলাদা কোনো আলোচনায় সেগুলো নিয়ে কথা বলা হতে পারে।
- ল্যান্ডিং পেজ তৈরির কাজটি ইউটিউবে এক থেকে চার ঘণ্টার ভিডিও দেখে শেখা সম্ভব বলে জানানো হয়েছে, কিন্তু একজন নতুন মানুষের নিজের জন্য এটি তৈরি করতে ঠিক কত সময় বা পরিশ্রম লাগবে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব এখানে দেওয়া হয়নি।
- ল্যান্ডিং পেজ বানাতে ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এই দুটির জন্য কত টাকা খরচ হবে বা কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে কিনলে ভালো হয়, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।
- ফেসবুক অ্যাড কখন চালানো উচিত তা বলা হলেও, পেইড মার্কেটিংয়ের জন্য কত টাকা বাজেট হাতে থাকলে সেটি নিরাপদ হবে, সেই সংখ্যাটি এখানে অনুপস্থিত।
- বাংলাদেশে অসংখ্য ড্রপশিপিং কোম্পানি আছে বলে জানানো হয়েছে, কিন্তু নির্দিষ্ট করে কোনো কোম্পানির নাম বা তাদের সাথে কাজ করার শর্তাবলি
I don’t have a video transcript to work from. Your message didn’t include the spoken words or the title I need to write this article. Please send the full transcript and the exact title you’d like me to use, and I’ll build the piece right away following every rule you’ve set out.
