ইকমার্স ওয়েবসাইটে পণ্য বিক্রি বাড়াতে হলে, কীভাবে বাংলায় প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লিখবেন তার উত্তর হলো—পণ্যের মূল উপকারিতা, সঠিক সাইজ ও ব্যবহারবিধি সহজ ভাষায় ১৫০-৩০০ শব্দের মধ্যে তুলে ধরা। আপনি যদি ছোট ইলেকট্রনিক্স আইটেম বিক্রি করেন, তাহলে ১৫০ শব্দ যথেষ্ট; কিন্তু জামাকাপড় বা আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে সাইজ চার্ট ও যত্নের নির্দেশনা থাকায় ৩০০ শব্দ পর্যন্ত লিখতে হবে।
আপনার পণ্যের ধরন, টার্গেট কাস্টমার কারা এবং আপনি কোন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করছেন—এই তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে লেখার দৈর্ঘ্য ও ধরন বদলাবে। এই পুরো গাইডটি সেই পার্থক্যগুলো বুঝিয়ে আপনাকে সঠিক লেখা তৈরি করতে সাহায্য করবে।
বাংলায় প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন কার জন্য

যারা নিজেদের অনলাইন দোকানে বাংলায় পণ্যের বিবরণ লিখতে চান, তাদের মধ্যে তিন ধরনের মানুষ এই লেখাটি খুঁজেন। প্রথমত, নতুন ফেসবুক পেজ বা ছোট ওয়েবসাইটের মালিক, যাদের কাছে হয়তো ১০-২০টি পণ্য আছে এবং তারা জানেন না কোথা থেকে শুরু করবেন। তাদের দরকার একটি সহজ কাঠামো যা দিয়ে দ্রুত লেখা যায়।
দ্বিতীয়ত, যারা আগে থেকেই বিক্রি করছেন কিন্তু কাস্টমার বারবার একই প্রশ্ন করছে বা কেনাকাটা কম হচ্ছে। তাদের সমস্যা হলো লেখায় তথ্যের অভাব বা ভুল উপস্থাপনা। তাদের দরকার এমন নির্দেশনা যা ভুলগুলো ধরিয়ে দেয় এবং বিক্রি বাড়ায়।
তৃতীয়ত, বড় ইকমার্স প্রতিষ্ঠানের কন্টেন্ট রাইটার, যাদের হাতে শত শত পণ্য থাকে। তাদের দরকার দ্রুত কাজ করার টেমপ্লেট এবং এসইও নিয়ম। তবে এই পৃষ্ঠাটি মূলত প্রথম ও দ্বিতীয় দলের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যারা নিজেদের ছোট বা মাঝারি ব্যবসার জন্য লিখছেন।
আপনি যদি বড় কোনো কর্পোরেট ব্র্যান্ডের জন্য কাজ করেন, তাহলে আপনার আলাদা এসইও টুলস ও ব্র্যান্ড গাইডলাইন মানতে হবে। এখানে আমরা ধরে নিচ্ছি আপনার কাছে ৫০টির কম পণ্য আছে এবং আপনি নিজেই সেগুলোর বিবরণ লিখবেন।
কোন বিষয়গুলো লেখার মান ঠিক করে
আপনার লেখা কতটা ভালো কাজ করবে তা কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে পণ্যের ধরন। আপনি যদি খাবার বা ত্বকের যত্নের পণ্য বিক্রি করেন, তাহলে উপাদানের তালিকা থাকা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশের BSTI অনুমোদিত পণ্যের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আরও কঠোর। অন্যদিকে, ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি ও পাওয়ার রেটিং বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে একটি সাধারণ ভুল হয় যা অনেক বিক্রেতার অজান্তেই টাকা খরচ করে দেয়। তারা সব পণ্যের জন্য একই রকম লেখার কাঠামো ব্যবহার করে। কিন্তু শার্ট বিক্রির লেখা আর মোবাইল ফোন বিক্রির লেখা কখনোই এক হতে পারে না।
শার্টের ক্ষেত্রে কাপড়ের ধরন, বুক ও কোমরের মাপ আলাদা করে দিতে হয়। আর মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা এবং প্রসেসরের নাম আগে আসবে। আপনার পণ্য যদি মানুষ পরে বা ব্যবহার করে, তাহলে মাপের ছক অবশ্যই দিন।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাস্টমারের ভাষা। আপনি কি শহরের তরুণদের কাছে বিক্রি করছেন, নাকি গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে? শহরের কাস্টমারদের জন্য ‘প্রিমিয়াম কোয়ালিটি’ বা ‘ট্রেন্ডি ডিজাইন’ শব্দ চলবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে ‘টেকসই’ বা ‘সহজে ধোয়া যায়’ কথা বেশি কাজ করে।
এই পার্থক্য বোঝার একটি সহজ নিয়ম আছে। আপনার পণ্যের দাম যদি সাধারণ বাজারের চেয়ে তিনগুণ বেশি হয়, তাহলে ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করা চলে। কারণ তখন ক্রেতা মর্যাদার জন্য টাকা দিচ্ছেন, শুধু প্রয়োজনের জন্য নয়।
আর দাম যদি সবার নাগালের মধ্যে থাকে, তাহলে একদম ঘরোয়া বাংলায় লিখুন। এতে ক্রেতা বুঝতে পারবেন যে পণ্যটি তার নিজের জীবনের সাথে মেলে। ভুল ভাষা বেছে নিলে ক্রেতা পণ্যটি দেখেও কিনবেন না।
তৃতীয় বিষয় হলো প্ল্যাটফর্মের সীমাবদ্ধতা। ফেসবুকে বিক্রি করলে প্রথম দুই লাইনেই মূল কথা বলতে হয়, কারণ বাকিটা লুকানো থাকে। আর নিজস্ব ওয়েবসাইটে আপনি চাইলে বিস্তারিত পয়েন্ট আকারে লিখতে পারেন।
ফেসবুকে ‘See More’ বাটনটি ঠিক কত অক্ষরের পর আসে তা অনেকেই জানেন না। সাধারণত ৪৮০ অক্ষরের পর বাকি লেখা লুকিয়ে যায়। তাই দাম, মূল সুবিধা এবং কেনার উপায় এই তিনটি তথ্য প্রথম তিন লাইনেই রাখতে হবে।
যারা ওয়েবসাইটে লেখেন, তাদের জন্য আলাদা একটি নিয়ম মানা উচিত। সেখানে প্রতিটি পয়েন্টের পর একটি ফাঁকা লাইন দিন। মোবাইলের ছোট পর্দায় ঘন হয়ে থাকা লেখা পড়তে চোখে কষ্ট হয়, আর ক্রেতা দ্রুত পেজ বন্ধ করে দেয়।
চতুর্থ বিষয় হলো ছবির সাথে লেখার সম্প
ধাপে ধাপে পণ্যের বিবরণ লেখার নিয়ম

সঠিক নিয়মে লিখলে কাস্টমারের মনে বিশ্বাস তৈরি হয় এবং তারা সহজেই কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। নিচের ধাপগুলো ঠিক এই ক্রমে অনুসরণ করুন।
-
প্রথম লাইনে মূল সুবিধা লিখুন: পণ্যের নামের পর প্রথম বাক্যেই বলুন এটি কাস্টমারের কী সমস্যার সমাধান করবে। যেমন, “এই ব্যাগে ১৫ ইঞ্চি ল্যাপটপ সহজেই ধরে।” এটি পড়লে কাস্টমার বুঝবে এটি তার কাজের কিনা।
-
৩-৫টি বুলেট পয়েন্ট দিন: পণ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো আলাদা লাইনে লিখুন। প্রতিটি পয়েন্ট ১০-১৫ শব্দের মধ্যে রাখুন। যেমন:
* উপাদান: ১০০% সুতি কাপড়।
* ওজন: মাত্র ২০০ গ্রাম।
* রঙ: কালো, নীল ও লাল। -
সাইজ ও মাপ উল্লেখ করুন: জামাকাপড় হলে বুকের মাপ ও লম্বা ইঞ্চিতে দিন। অন্য পণ্য হলে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা সেন্টিমিটারে লিখুন। এটি না দিলে কাস্টমার ভুল সাইজ অর্ডার করবে।
-
ব্যবহারবিধি বা যত্নের নিয়ম লিখুন: পণ্যটি কীভাবে ব্যবহার বা পরিষ্কার করতে হবে তা ২-৩ বাক্যে জানান। যেমন, “ঠান্ডা পানিতে হাতে ধুয়ে ছায়ায় শুকাতে হবে।” এতে পণ্যের স্থায়িত্ব বাড়বে।
-
উপাদানের তালিকা দিন: বিশেষ করে খাবার, প্রসাধনী বা শিশুদের পণ্যের ক্ষেত্রে কী কী দিয়ে তৈরি তা স্পষ্টভাবে লিখুন। এলার্জি আছে এমন কাস্টমারদের জন্য এটি জরুরি।
-
ওয়ারেন্টি ও রিটার্ন নীতি জানান: কতদিনের ওয়ারেন্টি আছে বা পণ্য পছন্দ না হলে কত দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়া যাবে তা লিখুন। যেমন, “৭ দিনের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি।”
-
কল টু অ্যাকশন (CTA) যোগ করুন: শেষে কাস্টমারকে কী করতে হবে তা বলে দিন। “অর্ডার করতে এখনই ‘Add to Cart’ বাটনে ক্লিক করুন”—এমন একটি বাক্য দিন।
এই ধাপগুলো শেষ করার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনার লেখাটি কি মোবাইল ফোনের ছোট স্ক্রিনে পড়তে আরামদায়ক? যদি পুরো লেখাটি একটি বড় প্যারাগ্রাফ হয়ে যায়, তাহলে কাস্টমার পড়বে না। লেখা শেষ হলে অবশ্যই নিজের ফোনে খুলে দেখুন। যদি একবারে ৪ লাইনের বেশি টানা লেখা চোখে পড়ে, তাহলে সেখানে ভেঙে নতুন প্যারাগ্রাফ তৈরি করুন। এটিই একটি সাধারণ লেখাকে প্রফেশনাল করে তোলে।
বিভিন্ন পণ্যের লেখার পার্থক্য
আপনি কী ধরনের পণ্য বিক্রি করছেন তার ওপর ভিত্তি করে লেখার কৌশল বদলাতে হবে। নিচের টেবিলে সাধারণ কিছু পরিস্থিতির তুলনা দেওয়া হলো।
| পণ্যের ধরন | কী লিখবেন | কতটুকু সময় লাগবে | কীসের দিকে খেয়াল রাখবেন |
|---|---|---|---|
| জামাকাপড় | সাইজ চার্ট, কাপড়ের ধরন | ১০-১৫ মিনিট | মাপের একক (ইঞ্চি/সেমি) |
| ইলেকট্রনিক্স | পাওয়ার, ওয়ারেন্টি, পোর্ট | ১৫-২০ মিনিট | ভোল্টেজ ও মডেল নম্বর |
| খাদ্যদ্রব্য | উপাদান, মেয়াদ, ওজন | ৫-১০ মিনিট | অ্যালার্জি সতর্কতা |
| প্রসাধনী | ত্বকের ধরন, ব্যবহারবিধি | ১০-১৫ মিনিট | BSTI অনুমোদন আছে কিনা |
| আসবাবপত্র | মাপ, ওজন, কাঠের ধরন | ২০-২৫ মিনিট | ডেলিভারি ও জোড়া লাগানো |
| বই | লেখক, পৃষ্ঠা সংখ্যা, ভাষা | ৫ মিনিট | প্রকাশনী ও সংস্করণ |
টেবিলে দেওয়া সময়গুলো ধরে নেওয়া হয়েছে আপনি পণ্যের সব তথ্য আগে থেকেই জানেন। যদি আপনাকে সরবরাহকারীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়, তাহলে প্রতিটি পণ্যের জন্য আরও ১০-১৫ মিনিট বেশি সময় লাগবে।
জামাকাপড়ের ক্ষেত্রে শুধু সাইজ লিখলেই হয় না, ফিটিংয়ের ধরন উল্লেখ করা জরুরি। স্লিম ফিট এবং রেগুলার ফিটের মধ্যে পার্থক্য না লিখলে রিটার্নের হার বেড়ে যায়। কাপড়ের সুতার ঘনত্ব বা GSM মান উল্লেখ করলে ক্রেতা গুণমান যাচাই করতে পারে।
ইলেকট্রনিক্স পণ্যে কেবল ওয়াট বা ভোল্টেজ যথেষ্ট নয়, সামঞ্জস্যতা নির্দিষ্ট করতে হয়। এই ডিভাইসটি কোন অপারেটিং সিস্টেম বা পূর্ববর্তী মডেলের সাথে কাজ করবে তা স্পষ্টভাবে লিখুন। ভুল সামঞ্জস্যতার তথ্য দিলে ক্রেতার বিশ্বাস নষ্ট হয় এবং নেতিবাচক রিভিউ বাড়ে।
খাদ্যদ্রব্যের তালিকায় অ্যালার্জেন আলাদাভাবে হাইলাইট করা আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। বাদাম, দুধ বা গ্লুটেন থাকলে তা উপাদানের তালিকার শুরুতে বোল্ড করে লিখুন। মেয়াদের তারিখের পাশাপাশি সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি না লিখলে পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
প্রসাধনীতে BSTI অনুমোদনের পাশাপাশি pH মাত্রা বা প্রধান সক্রিয় উপাদান উল্লেখ করা উচিত। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য উপযুক্ত কিনা তা পরীক্ষার পদ্ধতিসহ জানান। ক্রেতারা এখন উপাদানের কার্যকারিতা সম্পর্কে জানতে চায়, কেবল দাবি নয়।
আসবাবপত্রের মাপে প্যাকেজিংয়ের আকার আলাদাভাবে উল্লেখ করতে ভুলবেন
ভালো ও সাধারণ লেখার মূল পার্থক্য

সঠিক প্রস্তুতি ও তথ্যের ব্যবহার
ভালো লেখকরা সরাসরি লিখতে বসেন না। তারা প্রথমে পণ্যটি হাতে নিয়ে দেখেন বা সরবরাহকারীর কাছ থেকে সঠিক মাপ ও ওজনের তথ্য নেন। তারা যদি দেখেন পণ্যের ওজন ৫০০ গ্রাম, তাহলে লেখেন “৫০০ গ্রাম”, “হালকা” বা “ওজনে কম” এমন অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করেন না।
এরপর তারা প্রতিযোগীদের ওয়েবসাইট ঘুরে দেখেন কী তথ্য বাদ পড়েছে। প্রতিযোগী যদি শুধু রঙের নাম লেখে, ভালো লেখক রঙের সাথে কোন পোশাকে এটি মানাবে তাও উল্লেখ করেন। এই বাড়তি তথ্য কাস্টমারকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
তারা কখনোই মিথ্যা গুণগান গান না। পণ্য যদি সাধারণ মানের হয়, তাহলে “দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত” লেখেন, “সবচেয়ে সেরা” লেখেন না। মিথ্যা দাবি করলে কাস্টমার পণ্য পেয়ে রিটার্ন দেয়, যা আপনার টাকা ও সময় দুটোই নষ্ট করে।
ভুলগুলো যা এড়িয়ে চলতে হবে
সাধারণ লেখকরা প্রায়ই পণ্যের বৈশিষ্ট্য (feature) এবং সুবিধা (benefit)-র মধ্যে পার্থক্য বোঝেন না। তারা লেখেন “এতে ৫০০০ mAh ব্যাটারি আছে”। কিন্তু একজন দক্ষ লেখক লেখেন “৫০০০ mAh ব্যাটারি থাকায় একবার চার্জে সারাদিন চলবে”। কাস্টমার বৈশিষ্ট্য নয়, সুবিধা কেনে।
আরেকটি বড় ভুল হলো ইংরেজি শব্দের অতিরিক্ত ব্যবহার। “এক্সক্লুসিভ ডিজাইন” বা “প্রিমিয়াম কোয়ালিটি” শব্দগুলো সাধারণ কাস্টমারের কাছে অর্থহীন। এর বদলে “হাতে বোনা নকশা” বা “মজবুত সুতার তৈরি” লিখলে মানুষ সহজে বুঝতে পারে।
অনেকেই প্যারাগ্রাফ ভাঙেন না। মোবাইল ফোনে ৫-৬ লাইনের একটি বড় প্যারাগ্রাফ পুরো স্ক্রিন দখল করে নেয়। ভালো লেখকরা প্রতি ২-৩ বাক্য পর পর লাইন ব্রেক দেন, যাতে পড়া সহজ হয়।
পণ্যের বিবরণে সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
লেখার সময় কিছু সাধারণ ভুল হয় যা বিক্রি কমিয়ে দেয়। নিচের টেবিলে সমস্যা ও তার সমাধান দেওয়া হলো।
| আপনি যা দেখছেন | এর মানে কী | প্রথমে কী করবেন | কীভাবে এড়িয়ে চলবেন |
|---|---|---|---|
| কাস্টমার বারবার একই প্রশ্ন করছে | লেখায় তথ্যের অভাব আছে | সেই তথ্যটি লেখায় যোগ করুন | কেনার আগে কাস্টমারের প্রশ্ন ভাবুন |
| পণ্য পেজ থেকে কেউ কিনছে না | দাম বা সুবিধা পরিষ্কার নয় | সুবিধাগুলো বুলেট পয়েন্টে দিন | প্রতিযোগীদের দাম ও অফার দেখুন |
| রিটার্নের হার অনেক বেশি | সাইজ বা রঙ নিয়ে বিভ্রান্তি | সাইজ চার্ট ও রঙের নাম স্পষ্ট করুন | আসল পণ্যের পরিষ্কার ছবি দিন |
| লেখা পড়তে কঠিন লাগছে | কঠিন শব্দ বা বড় বাক্য ব্যবহার হয়েছে | বাক্য ছোট করুন, সহজ শব্দ দিন | লেখার পর জোরে পড়ে শোনান |
| মোবাইলে লেখা অগোছালো দেখায় | প্যারাগ্রাফ অনেক বড় হয়ে গেছে | প্রতি ৩ লাইন পর ব্রেক দিন | মোবাইলে প্রিভিউ দেখে পাবলিশ করুন |
এই সমস্যাগুলো এড়াতে সবসময় লেখা শেষ হলে একজন সাধারণ ক্রেতার চোখে সেটি পড়ুন।
অনেক বিক্রেতা একটি বড় ভুল করেন। তারা পণ্যের ফিচার লেখেন, কিন্তু সুবিধা লেখেন না।
ফিচার হলো পণ্যের কোনো প্রযুক্তিগত তথ্য। যেমন ব্যাটারির ক্ষমতা বা কাপড়ের উপাদান।
আর সুবিধা হলো ক্রেতা সেই ফিচার দিয়ে কী পাবেন। এই পার্থক্য না বুঝলে বিক্রি কমে যায়।
ধরা যাক আপনি একটি পাওয়ার ব্যাংক বিক্রি করছেন। শুধু লিখলেন এতে ১০০০০ mAh ব্যাটারি আছে।
ক্রেতা এই সংখ্যা দেখে বুঝতে পারছেন না এতে তাঁর কী লাভ। তিনি হয়তো পেজ ছেড়ে চলে যাবেন।
এর বদলে লিখুন এই ব্যাটারিতে আপনার ফোন দুইবার পুরোপুরি চার্জ হবে। এবার ক্রেতা ঠিক বুঝলেন।
এখানে একটি সহজ সিদ্ধান্তের নিয়ম কাজ করে। পণ্য যদি প্রযুক্তির হয়, তাহলে সুবিধা আগে বলুন।
আর পণ্য যদি কাপড় বা গয়নার হয়, তাহলে উপাদানের বিস্তারিত আগে দেওয়া ভালো।
কারণ প্রযুক্তির ক্রেতা জানতে চান এটা দিয়ে কী করা যাবে। আর কাপড়ের ক্রেতা আগে দেখেন কী দিয়ে তৈরি।
আরেকটি খুব সাধারণ ভুল হলো সাইজ নিয়ে ধরে নেওয়া। আপনি ভাবছেন সবাই আপনার সাইজ চার্ট বুঝবে।
কিন্তু একেক ব্র্যান্ডের M বা L সাইজের মাপ আলাদা হয়। এই বিভ্রান্তিতেই সবচেয়ে বেশি রিটার্ন আসে।
শুধু S, M, L লিখলেই হবে না। সাথে ইঞ্চিতে বুকের এবং কোমরের মাপ অবশ্যই উল্লেখ করুন।
সাথে বলে দিন মডেলের উচ্চতা কত এবং সে কোন সাইজ পরে আছে। এতে ক্রেতা নিজের সাথে মেলাতে পারেন।
রিটার্নের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় অনেকে ভুলে
