বাংলা টাইপোগ্রাফি বা গ্রাফিক ডিজাইনের জগতে যারা কাজ করেন, তাদের কাছে ‘ইউনিকোড’ এবং ‘আনসি’ শব্দ দুটি অত্যন্ত পরিচিত। কিন্তু নতুন যারা ডিজাইনে আসছেন বা সাধারণ ব্যবহারকারী, তাদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে—এই দুই ধরনের ফন্টের মধ্যে আসলে পার্থক্য কী? কেন কিছু ফন্ট ইন্টারনেটে কাজ করে কিন্তু ফটোশপে ভেঙে যায়? অথবা কেন পুরনো ডিজাইনের ফন্টগুলো অনলাইনে পড়া যায় না?
আজকের ব্লগে আমরা ইউনিকোড এবং আনসি ফন্টের খুঁটিনাটি এবং আপনার কাজের জন্য কোনটি সেরা তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
ইউনিকোড এবং আনসি ফন্টের পার্থক্য:
ইউনিকোড (Unicode) কী?
ইউনিকোড হলো একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (Standard), যা বিশ্বের প্রতিটি ভাষার প্রতিটি অক্ষরের জন্য একটি নির্দিষ্ট কোড বা নম্বর প্রদান করে। সহজ কথায়, ইউনিকোড এমন একটি প্রযুক্তি যা ইন্টারনেটে সব ডিভাইসে ভাষাকে একইভাবে প্রদর্শন করে।
আপনারা ফেসবুকে, মেসেঞ্জারে বা অনলাইনে যা কিছু বাংলা লিখছেন, তার সবই ইউনিকোড ফন্ট। যেমন: সিয়াম রূপালী, সোলাইমান লিপি ইত্যাদি।
আনসি (ANSI) কী?
আনসি (ANSI – American National Standards Institute) হলো ফন্ট এনকোডিংয়ের একটি পুরনো পদ্ধতি। বাংলা টাইপোগ্রাফির শুরুর দিকে যখন ইউনিকোড ছিল না, তখন বিজয় বা অন্যান্য কিবোর্ড সফটওয়্যার দিয়ে এই পদ্ধতিতে বাংলা লেখা হতো। এতে ইংরেজি ক্যারেক্টারগুলোকে বাংলার আদলে সাজানো হতো। যেমন: ‘SutonnyMJ’ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় আনসি ফন্ট।
ইউনিকোড এবং আনসি ফন্টের মূল পার্থক্য
নিচে একটি তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে এদের পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো:
১. ব্যবহারের ক্ষেত্র
- ইউনিকোড: এটি মূলত ওয়েবসাইট, ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং আধুনিক সব সফটওয়্যারে ব্যবহারের জন্য তৈরি। এটি সব ডিভাইস (মোবাইল, কম্পিউটার, ট্যাব) সাপোর্ট করে।
- আনসি: এটি মূলত অফলাইন গ্রাফিক ডিজাইন এবং প্রিন্টিং প্রেসের কাজের জন্য জনপ্রিয়। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের পুরনো ভার্সন বা পুরনো ফটোশপে এটি বেশি ব্যবহৃত হতো।
২. টেক্সট কনভার্সন
- ইউনিকোড: আপনি মোবাইলে যা লিখবেন, তা কম্পিউটারে কপি করলে হুবহু একই থাকবে। ফন্ট পরিবর্তন করলেও লেখা ভাঙবে না।
- আনসি: আনসি ফন্টে লেখা টেক্সট যদি আপনার পিসিতে সেই নির্দিষ্ট ফন্টটি না থাকে, তবে তা হিজিবিজি ইংরেজি অক্ষরের মতো দেখাবে। এটি ইন্টারনেটে শেয়ার করা যায় না।
৩. যুক্তবর্ণের গঠন
- ইউনিকোড: এখানে যুক্তবর্ণগুলো সিস্টেম নিজে থেকেই প্রসেস করে। ফলে লেখা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
- আনসি: এখানে যুক্তবর্ণ লেখার জন্য নির্দিষ্ট কী-বোর্ড কমান্ড মনে রাখতে হয়। অনেক সময় যুক্তবর্ণ ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে।
কোনটি সেরা? ইউনিকোড নাকি আনসি?
আসলে ‘সেরা’ বিষয়টি নির্ভর করে আপনি কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন তার ওপর।
কখন ইউনিকোড ব্যবহার করবেন?
যদি আপনার কাজ হয় অনলাইনে—যেমন ব্লগ লেখা, ফেসবুক কন্টেন্ট তৈরি করা, ইউটিউব থাম্বনেইল বানানো বা ওয়েবসাইট ডিজাইন করা—তবে ইউনিকোড-ই আপনার একমাত্র এবং সেরা পছন্দ। বর্তমানের আধুনিক ফটোশপ (CC ভার্সন) এবং ইলাস্ট্রেটরে ইউনিকোড খুব সুন্দরভাবে সাপোর্ট করে। ফ্রি লিপি (Free Lipi) ওয়েবসাইটে আপনি অসংখ্য চমৎকার ইউনিকোড ফন্ট পাবেন।
কখন আনসি ব্যবহার করবেন?
যদি আপনি কোনো পুরনো প্রিন্টিং প্রেসে কাজ করেন যেখানে অনেক আগের সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়, অথবা এমন কোনো ডিজাইনারের সাথে কাজ করেন যিনি কয়েক দশক ধরে বিজয় (Bijoy) পদ্ধতিতে কাজ করছেন, তবে আপনাকে আনসি ব্যবহার করতে হতে পারে। তবে বর্তমানে এর প্রয়োজনীয়তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
গ্রাফিক ডিজাইনারদের জন্য ফ্রি লিপির পরামর্শ
একজন আধুনিক গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে আপনার উচিত ইউনিকোড (Unicode) ফন্ট ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া। এর কারণগুলো হলো: ১. ভবিষ্যৎমুখী: প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সব সফটওয়্যার এখন ইউনিকোড ফ্রেন্ডলি হচ্ছে। ২. সহজ লভ্যতা: ইউনিকোড ফন্ট দিয়ে লেখা কন্টেন্ট খুব সহজে এডিট করা যায় এবং যেকোনো ডিভাইসে পাঠানো যায়। ৩. ফ্রি লিপি কালেকশন: আমাদের ওয়েবসাইটে (freelipi.com) আমরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন স্টাইলিশ ইউনিকোড ফন্ট যুক্ত করছি, যা আপনার ডিজাইনকে দেবে প্রিমিয়াম লুক।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, ইউনিকোড হলো আধুনিকতা এবং গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডের প্রতীক, আর আনসি হলো পুরনো পদ্ধতির ঐতিহ্য। আপনি যদি নতুন ডিজাইনার হন, তবে ইউনিকোড দিয়েই আপনার যাত্রা শুরু করা উচিত। এতে আপনার কাজ যেমন সহজ হবে, তেমনি তা সব প্ল্যাটফর্মে গ্রহণযোগ্য হবে।
সেরা সব বাংলা ইউনিকোড এবং স্টাইলিশ ফন্ট বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে চোখ রাখুন FreeLipi.com-এ। আপনার টাইপোগ্রাফি হোক সুন্দর এবং সাবলীল!
